এশিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে শিল্পভিত্তি বহুদিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক পরিচিত কৌশলের ওপর—কম খরচে উৎপাদন ও তা বিশ্ববাজারে রফতানি। এ রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধিকেই অর্থনীতির প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে দেশগুলো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া এ মডেল ঘিরেই গড়ে তুলেছে সম্পূর্ণ শিল্পনগর ও উৎপাদনকেন্দ্রিক শহরাঞ্চল। দীর্ঘ সময় ধরে এ কৌশল স্থিতিশীল ও সফল বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন, শুল্ক ঝুঁকি ও সাপ্লাই চেইনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় এখন এ কম খরচে উৎপাদননির্ভর রফতানি মডেলই নতুন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও প্রায় অভিন্ন নীতি অনুসরণ করে আসছে। কম খরচে শ্রম ও উৎপাদন সুবিধা ভর করে তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল ও অন্যান্য পণ্য রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করেছে। ফলে শুল্ক বৃদ্ধি, অর্ডার স্থানান্তর ও সাপ্লাই চেইনের ধাক্কা এখন এ অঞ্চলের রফতানিনির্ভর শিল্প কাঠামোকেও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলের রফতানিনির্ভর শিল্প আগে ভূরাজনীতির ধাক্কা থেকে অনেকটা সুরক্ষিত ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। কৌশল না বদলালে সামান্য শুল্ক পরিবর্তন বা সাপ্লাই চেইনে বাধা থেকেই বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ও শিল্পভিত্তি, যা দেশগুলোকে নতুন অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
শীতলযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে ২০১০-এর দশক পর্যন্ত বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় আউটসোর্সিং ও অফশোরিং ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। বিশেষত শ্রমঘন শিল্পের বড় অংশ স্থানান্তর হয় এশিয়ায়। আর এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে চীন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রফতানিনির্ভর উৎপাদন কাঠামো। পশ্চিমা বাজার ছিল স্থিতিশীল, শুল্কনীতি তুলনামূলক মুক্ত। আর সাপ্লাই চেইন ছিল কম রাজনৈতিক। এ কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রফতানি শিল্প দীর্ঘদিন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে অনেকটা সুরক্ষিত ছিল। তবে দৃশ্যপট বদলে যায় ২০২৫ সালের শুরুতে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমানে উৎপাদন শিল্প কৌশলগত অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক মোটর ও টারবাইন, প্রতিরক্ষা সংযুক্ত যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ও ইভি–কম্পোনেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প যন্ত্রপাতি সরবরাহ এখন সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীন এসব খাতে রফতানি–নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি, উৎপাদন স্থানান্তর ও জিওইকোনমিক নীতির মাধ্যমে যে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে, তার প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পভিত্তির ওপর।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানায়, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা স্থাপত্যের অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে জানায়, বাড়তে থাকা বাণিজ্য বাধা ও সাপ্লাই চেইনে ঘন ঘন বিঘ্নের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সীমিত প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিতে পড়ছে। কারণ এ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অঞ্চলের উৎপাদনভিত্তিক শিল্পভিত্তিকে ক্ষয় করছে।
এ নীতিগত পরিবর্তন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের প্রকৌশলনির্ভর উপখাতগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুল্ককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বড় বাণিজ্য শক্তিগুলো, যার চাপে পড়ছে আসিয়ান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে যাওয়া পণ্যের ওপর নতুন ধরনের ট্রান্সশিপমেন্ট শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং এ অঞ্চলের রুট ব্যবহার করা নানা শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্র এসব পণ্যের ওপর উচ্চশুল্ক আরোপ করছে। এতে সরাসরি চাপ পড়ছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে রফতানীকৃত বল-বিয়ারিং ও বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গিয়ারসেটের ওপর। কারণ এগুলোর উৎপাদন এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল চীনা কাঁচামালের ওপর। এর ধারাবাহিক প্রভাবে আসিয়ানভুক্ত উৎপাদকদের এখন বেশি কমপ্লায়েন্সের বোঝা বইতে হচ্ছে। কাঁচামালের খরচ বেড়েছে, আর ভবিষ্যতে কোত্থেকে কীভাবে পণ্য জোগাড় করা যাবে, সেটি নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আসিয়ানের নীতিনির্ধারকদের এখন প্রথম কাজ হলো টারবাইন ব্লেড, প্রিসিশন বিয়ারিং, ড্রাইভট্রেন গিয়ারসেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশকে শুধু সাধারণ শিল্পপণ্য হিসেবে না দেখে কৌশলগত অবকাঠামো হিসেবে ধরা। অর্থাৎ এসব উপাদানকে জাতীয় শিল্প–নিরাপত্তা নীতির ভেতর আনতে হবে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে নিজেদের উৎপাদিত বা যেগুলো আমদানিনির্ভর, এমন গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আলাদা করে তালিকাভুক্ত করতে হবে। কোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তা চিহ্নিত করে আঞ্চলিকভাবে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র গড়া বা বাড়তি মজুদ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। কারণ মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর সংযুক্ত প্রিসিশন মেশিনিং করিডোর হোক বা থাইল্যান্ডের টারবাইন ও অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট হাব—এর সবই এ অঞ্চলের সবচেয়ে উন্নত শিল্প ক্লাস্টারের অংশ। তাই এখানে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু ওই দেশেই আটকে থাকে না; এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পরিবহন ব্যবস্থা ও ভারী শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলে, আসিয়ানজুড়ে। আঞ্চলিক স্তরে বিকল্প ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলে বাইরে থেকে আসা ধাক্কার ঝুঁকি কমবে, আর একাধিক দেশের শিল্প উৎপাদনও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে।
এছাড়া প্রত্যেক আসিয়ান দেশকে আগে নিজেদের সাপ্লাই চেইনের দুর্বল জায়গাগুলো স্পষ্ট করে দেখতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কোন কাঁচামাল কোন দেশ থেকে আসে, কোন বন্দর বা রুটের ওপর বেশি নির্ভরশীল, কোথায় শুল্ক বা রাজনৈতিক ঝুঁকি বেশি—এসব নিয়ে এক ধরনের ‘সাপ্লাই চেইন অডিট’ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। যেমন ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়াকে জানতে হবে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ গিয়ার ব্ল্যাঙ্ক কতটা চীনা রফতানির ওপর নির্ভরশীল আর ওই যন্ত্রাংশ এমন কোনো বন্দরের মাধ্যমে আসে কিনা যা সহজেই বিঘ্নের ঝুঁকিতে থাকে। এ দুই দেশই এ অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। ভিয়েতনাম দ্রুতবর্ধনশীল প্রিসিশন মেশিনিং ও ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলি কেন্দ্র হয়ে উঠছে, যেখানকার পণ্য টারবাইন, ভারী যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি খাতে যাচ্ছে। ফলে আপস্ট্রিম সরবরাহে সামান্য ধাক্কাও একসঙ্গে অনেক শিল্পকে চাপে ফেলে দিতে পারে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার বড় যন্ত্রপাতি, ধাতব শিল্প ও অটোমোটিভ কারখানাগুলো অনেকটাই নির্ভরশীল আমদানি করা টুলিং, বিশেষ ধরনের স্টিল ও আধা প্রস্তুত যন্ত্রাংশের ওপর। এসব পণ্য সাধারণত ভিড়াক্রান্ত ও ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক রুট, যেমন তাঞ্জুং প্রিয়ক ও বেলাওয়ান বন্দর হয়ে আসে। ফলে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া দুই দেশের অর্থনীতিই এখন শুল্ক বৃদ্ধি, রফতানি নিয়ন্ত্রণ বা যেকোনো ধরনের লজিস্টিক বাধার ঝুঁকিতে আরো বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক থিংকট্যাংক লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলে বাণিজ্য ও শিল্পনীতির সমন্বয় আরো জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত শুল্ক মানচিত্রে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসিয়ান দেশগুলোর পারস্পরিক শুল্কহার ১৯-২০ শতাংশের মধ্যে স্থির হয়ে আছে। এতে অন্তত একটা সুবিধা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা জানেন সামনে কতটা শুল্ক ঝুঁকি আছে, ফলে নীতি স্থিতিশীলতা একটা প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো শিল্প উপাদানের জন্য অভিন্ন মানদণ্ড, সার্টিফিকেটের পারস্পরিক স্বীকৃতি আর কৌশলগত যন্ত্রাংশের কিছু যৌথ মজুদ গড়ে তুলতে পারলে একটি দেশে কোনো শিল্প নোড বন্ধ হলে তার ধাক্কা আরেক দেশকে এতটা নাড়াতে পারবে না। বিশ্লেষকদের ভাষায়, শিল্পনীতি আর কৌশলগত পরিকল্পনা যদি পাশাপাশি না চলে তাহলে এ অঞ্চল নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করবে না, বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর স্বার্থের ছাঁচেই তাকে গড়ে উঠতে হবে।
কম খরচে শ্রম, আউটসোর্সিং-নির্ভর উৎপাদন এবং পশ্চিমা বাজারমুখী রফতানি কাঠামো দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পভিত্তিও মূলত একই মডেলের ওপর দাঁড়িয়ে। এ অঞ্চলের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল–অটোমোটিভ উপখাত, অ্যাপারেল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতানির্ভর ভ্যালু চেইনের অংশ হিসেবে কাজ করেছে। এ কাঠামোতে দেশগুলোতে কাঁচামাল-বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ আসে বাইরে থেকে। আর পণ্য রফতানি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে। কিন্তু পরিবর্তিত বাস্তবতায় এ অঞ্চলেও চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে কটন–ইয়ার্ন, সিনথেটিক ফাইবার, কেমিক্যাল ডাই ও বিশেষায়িত কাপড়—এসব কাঁচামালের বড় অংশই চীন-ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি বা রফতানি নিয়ন্ত্রণ জারি হলে পুরো উৎপাদন চক্র একসঙ্গে চাপে পড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে অর্ডার স্থানান্তর, নিকটবর্তী দেশে উৎপাদন সরানো এবং ট্যারিফ ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমঘন রফতানি শিল্পে আয় ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এ অঞ্চলের আরেকটি কাঠামোগত বড় দুর্বলতা হলো আমদানিনির্ভর উৎপাদন। এ অঞ্চলে বৈদেশিক মুদ্রা সংকট দেখা দিলে প্রথম ধাক্কা লাগে কাঁচামাল আমদানিতে, যা সরাসরি কারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। অর্থাৎ এখানে সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি শুধু বৈশ্বিক নয়, স্থানীয় অর্থনৈতিক চাপও উৎপাদনকে অস্থিতিশীল করে। ভারতের ক্ষেত্রে বড় শিল্পভিত্তি ও বহুমুখী অর্থনীতি কিছুটা সুরক্ষা দিলেও অটোমোটিভ, ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলি ও ফার্মাসিউটিক্যাল উপখাতে বিদেশী কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশনির্ভরতা রয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক শুল্কনীতি ও জিওইকোনমিক প্রতিযোগিতার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার রফতানিনির্ভর শিল্প এখন এমন এক সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নীতিগত ঝুঁকির প্রভাব সরাসরি পড়ছে উৎপাদন ও রফতানিতে। সব মিলিয়ে কম খরচে উৎপাদনভিত্তিক মডেলের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষত এমন দেশে, যাদের সামগ্রিক অর্থনীতি রফতানিনির্ভর খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল।